অধিকার ও গোমাংস

2
Author Image মোহিত রায়

অধিকার নিয়ে ভারতীয়, বিশেষতঃ বঙ্গীয়  বুদ্ধিজীবী তথা স্বঘোষিত মানবাধিকার কর্মীরা খুবই সচেতন । তাঁরা বলছেন, আমরা কি খাব, কি পড়ব তা  কেন  ঠিক করে দেবে সরকার? আমার অধিকারে হস্তক্ষেপ করার কোনও ক্ষমতা সরকারের থাকতে পারে না।  একটি জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেলের এক বিতর্ক সভায় এই প্রসঙ্গে আমি  প্রশ্ন করেছিলাম, এই টেলিভিশন চ্যানেলের বিতর্কে কি তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে আসার অধিকার আপনাদের আছে? আপনারা কি তসলিমা নাসরিনের কোনও সিরিয়াল কাল থেকে দেখাতে পারবেন? বিতর্কের অন্য দিকে  তখন বসে ছিলেন বাংলার খ্যাতনামা তৃণমূল পন্থী একজন  নাট্যকার ও একজন কবি। বাংলায় কোন বই প্রকাশিত হবে, কোন সিনেমা দেখানো যাবে, কোন কবি থাকতে পারবেন তা ঠিক করে  দেবে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশীর্বাদধন্য ইসলামি মৌলবাদীরা। যারা অধিকার নিয়ে এত কথা বলেন, তারা  তবে কোন অধিকারের কথা বলেন?  আপনার কি অধিকার আছে ইচ্ছে মতো ছবি আঁকার? ‘ছবিতে রামায়ণ’এর মতো ‘ছবিতে কোরান’ প্রকাশ করার? যদি এই প্রশ্নর উত্তর হ্যাঁ হয়, তাহলে অধিকারের সীমা নিয়ে কথা বলা যেতে পারে। যেহেতু উত্তরটা না, সেজন্য অধিকার নিয়ে বড় বড় কথা বলাটা আপনাদের সাজে না।  বিতর্ক সভায় এ বিষয় নিয়ে বিরুদ্ধ পক্ষের সিপিএম-তৃণমূল বুদ্ধিজীবী-বিদ্বজ্জনরা কোনও কথা আর তোলেননি।

cow

এবার সরাসরি খাওয়ার অধিকারে আসি।  বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান বা কোনও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে কি শূকরের মাংস খেতে পারেন? না। কেন নয়? এসব দেশে অনেক অমুসলমান থাকেন যারা শূকরের মাংস খেতে ভালোবাসেন। আমাদের দেশের কোনও মুসলমান সংঠন কি সেইসব দেশে অমুসলমানদের শূকরের মাংস খাবার অনুমতি দেবার জন্য কোনওদিন আবেদন করেছেন? ঘরের পাশে বাংলাদেশ, আমাদের বাংলাদেশ প্রেমী সেকুলার হিন্দু বাঙালিরা এ নিয়ে নীরব কেন থাকেন? সুতরাং খাবার অধিকার নিয়ে সারা পৃথিবীতেই এবং ভারতে মুসলমানদের কোনও কথা বলারই অধিকার নেই। যেদিন থেকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে শূকরের মাংস ও হালাল ছাড়া মাংস খাবার অধিকার দেওয়া হবে সেদিন মুসলমানরা অন্য দেশের খাবারের অধিকার নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা অর্জন করবেন।
আচ্ছা মুসলিম দেশগুলির কথা না হয় ছেড়েই দিলাম, এরা না হয় পুরো ‘সভ্য’ দেশ নয়। বরং সভ্য ও গণতন্ত্রের দেশ যেমন আমেরিকা ইউরোপের কথাটা আসা যাক। গণতন্ত্রের দেশ আমেরিকা, যেখানে  দেশের জাতীয় পতাকা পোড়ালেও আপনার শাস্তি হবে না, কিন্তু সেখানে কি কুকুরের মাংস খেতে পারেন?  না, সেখানে কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ ।  আমেরিকায় লক্ষ লক্ষ চিনা, কোরিয়ান, ভিয়েতনামীরা  আছেন, চিনারা আছেন একশো বছরেরও বেশী সময় ধরে। আমেরিকান সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিনারা। আমেরিকার চিনা বিজ্ঞানীরা মাঝেমাঝেই  নোবেল প্রাইজ পান।  কিন্তু এঁরা তাদের প্রিয় কুকুরের মাংস খেতে পান না । কুকুরের মাংস খাবার অধিকার  নিয়ে আজ পর্যন্ত চিনারা কোনও দাঙ্গা বাধায়নি । এটাই সভ্য সমাজের রীতি। ইউরোপের বহু দেশেও কুকুর খাওয়া নিষিদ্ধ। যেকোনও দেশের সভ্যতার প্রধান কিছু বিষয়কে অন্যদেরও মেনে নেওয়া উচিত। কুকুরের সঙ্গে আমেরিকা ইউরোপের মানুষের দীর্ঘ দিনের একটি আন্তরিক সম্পর্ক রয়েছে, সেদেশে থাকতে এসে অন্য সংস্কৃতির মানুষরা তা মেনে নেয়। আমেরিকায় তো এখন ঘোড়া হত্যাও বন্ধ হয়ে গেছে। সময় এগিয়ে চলে।কুকুর না খেয়ে আমেরিকায় চিনারা মরে যায়নি। সুতরাং যা খুশি  খাবার যথেচ্ছ অধিকার গণতন্ত্রেও থাকে না, ফলে ভারতে সবার সব কিছু খাবার অধিকার থাকতেই হবে একথার আর কোন‍ও মূল্য থাকে না।

আরও পড়ুন: বৈধ ও অবৈধ কসাইখানার তফাৎ গুলিয়ে দিচ্ছেন ‘বুদ্ধিজীবী’রা

তাছাড়া  গোমাংস খাবার সঙ্গে ইসলামের কোনও সম্পর্ক নেই। ইসলাম একটি আরবি ধর্ম, আরবে গরু নেই।  ইসলামের প্রবর্তক কোনওদিন গোমাংস খেয়েছেন বলে শোনা যায় না। গোমাংস না খেলে কারো কোনও ধর্মপালনেও ক্ষতি হবে না। তাহলে গোমাংস খাবার অধিকার নিয়ে কেন এত হইচই, আন্দোলন? এদেশে যাদের পাঁঠা মুরগিতে আঁশ মিটছে না  তাঁরা  মোষ খান যত খুশি। গোহত্যা, গোমাংস খাবার দাবি আসলে ভারতীয় ও হিন্দু সভ্যতাকে অপমানের একটি উদ্দেশ্য মাত্র। হাজার বছর ধরেই ইসলামী আগ্রাসনের একটি অস্ত্র ছিল গোহত্যা।  হিন্দুদের কাছে পূজ্য গরুর মাংস দিয়ে মন্দির অপবিত্র করা থেকে, হিন্দুদের গোমাংস খাইয়েই ধর্মচ্যূত করা – এ চলেছে হাজার বছর ধরে।  সুতরাং ইসলামের জন্য নয় হিন্দুদের অপমান করাই মুসলমান ও তাদের তোষণকারীদের গোমাংস খাবর দাবির একমাত্র কারণ।  ভারতের উত্তর-পূর্বের খ্রিস্টান প্রধান প্ৰদেশগুলির অবস্থা ভিন্ন, সেখানে কোনও বিশেষ ছাড় দেওয়াই যেতে পারে।  কিন্তু বাকি ভারতে ইসলামী মৌলবাদীদের সুচাগ্র ছাড়ও  কখনই নয়।
এখন পন্ডিতদের অনেকেই বলছেন, বেদে গোমাংস খাবার কথা বলা আছে। যদিও এ নিয়ে বেদ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে।  বাংলায় এসব বিষয়ে কেবলমাত্র বামপন্থী মতের চর্চায় হয়, অন্য মতামত আলোচনায় হয় না।  যেমন আমাদের গত পাঁচ দশকের ইতিহাস চর্চা পুরোটাই চলে গিয়েছে মুসলমান তোষণকারী বামপন্থী রোমিলা থাপার, ইরফান হাবিবদের কব্জায়।  বৈদিক যুগে বহুবিবাহ প্রথাও ছিল। পুত্রদের প্রতি বিশেষ পক্ষপাত ছিল। পরের যুগে এসেছে জাতপাত, সতীদাহ। ভারতীয় সভ্যতা কোনও বিশেষ গ্রন্থের সভ্যতা নয়। সে এগিয়ে চলে। তাই বহুবিবাহ, সতীদাহর মতো গোমাংস ভক্ষণ এখন ভারতীয় সভ্যতার অঙ্গ নয়। গত হাজার বছরের ভারতে গরু একটি পূজ্য প্রাণী, ভারতে বসবাসকারী অন্য সংস্কৃতির মানুষদের তা মানতে হবে। দুঃখ হয় যখন দেখি  যে  বেদ উপনিষদের পন্ডিত, স্রেফ ইসলামী মৌলবাদের পক্ষের একটি দলের অনুগ্রহ পেয়ে কিভাবে  শাস্ত্রকে বিপথে ব্যবহার করেন।
এই রাজ্য এখন চালাচ্ছে এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা ঘৃণ্য তিন তালাককে সমর্থন করে। বাঙালি বাম -ডান  বিদ্বজ্জনেরা নীরব থেকে তাকে সমর্থন যোগায়। এই দল কলকাতার নিরামিষ  লিটিল ম্যাগাজিনওয়ালাদের পর্যন্ত সাহবাগ নিয়ে মিছিল করতে দেয়নি। কিন্তু ৩১ মার্চ, ২০১৩ কলকাতা ময়দানে ৩০ হাজার ইসলামী মৌলবাদীকে বাংলাদেশের গণহত্যাকারীদের সমর্থনে সভা করতে দিয়েছে। এই সরকার পশ্চিমবঙ্গকে ‘পশ্চিম বাংলাদেশ’ করার কাজে নেমেছে। পশ্চিমবঙ্গে গোমাংস নিয়ে লড়াইটা স্রেফ গরু নিয়ে  নয়, লড়াইটা পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবন্ত সভ্যতাটিকে রক্ষা করার। পশ্চিমবঙ্গকে পশ্চিম বাংলাদেশ বানানোর ইসলামী চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর লড়াই।
  • Samim Ahmed

    Mr Mohit Roy you are a liar and you are a Muslim hater.Why the great painter Mokbool Fida Hossain couldn’t live this country?Why are you so sympathetic of talisman? You are a warm of the society

  • Samim Ahmed

    Why are you not banning the export of Beef Mr.Roy?All the beef exporters are close to BJP and RSS.Mr Roy You are a person without intregity