অসহায় মানুষের আনন্দ কেন্দ্র

টিম বিতর্ক

0

নিজস্ব প্রতিবেদন : উত্তর চব্বিশ পরগনার বাদুড়িয়া ব্লকে আটঘরা গ্রাম।আনন্দ কেন্দ্র এখানেই।প্রবেশ দ্বারের উপর সংস্থার লোগো সহাস্য এক বয়স্ক মানুষ, এক মহিলা এবং এক শিশু।এখানেই আনন্দ কেন্দ্রের মূলমন্ত্র।২০ বছরের  বেশি পুরানো এই কেন্দ্রটি বয়স্ক মানুষ,নিরাশ্রয় মহিলা এবং ঘর হারানো অনাথ শিশুদের আবাস।
সোসাইটি ফর ইকুইটেবল ভলান্টারি অ্যাকশনস-এর ( SEVA) উদ্যোগে বিকাশ কেন্দ্র গড়ে ওঠে ১৯৮৫ সালে।
গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন,শিক্ষা,স্বাস্থ্যসচেতনতার লক্ষ্যে নানা রকম কাজ সংগঠিত করেন এঁরা। জৈব চাষের ক্ষেত্রেও ব্লকে বিশেষ উদ্যোগ নিতে পেরেছেন সংগঠকেরা। মূল স্রোতে যুক্ত করেছেন কাহারপাড়ার প্রান্তিক মানুষদের।এদেরই এক পদক্ষেপ আনন্দ কেন্দ্র। SEVA তথা বিকাশকেন্দ্রের প্রাণপুরুষ শ্রী অশোক ঘোষ ভারতীয় পর্যটনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকের চাকরি ছেড়ে সস্ত্রীক,স্ববান্ধবে যুক্ত  হয়েছিলেন এই কর্মযজ্ঞে।এক সময়ের কম্যুনিস্ট আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী,স্টুডেন্টস হেলথ হোমের অন্যতম সংগঠক অশোক বাবু পরবর্তী জীবনে পান্নালাল দাশগুপ্তের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্যে আসেন। রবীন্দ্রনাথের ভাবাদর্শে উদ্বুদ্ধ,সাম্যবাদ ও গান্ধীবাদের আশ্চর্য রসায়নে সমৃদ্ধ অশোক বাবুর ভাবনা চিন্তা স্পষ্ট ছাপ রয়েছে বিকাশ কেন্দ্রে, আনন্দ কেন্দ্রে। এঁদের আরো এক কর্মোদ্যোগ শ্রীকান্ত মণ্ডলের দায়িত্বে বীরভূমের মির্জাপুরকে কেন্দ্র করে ‘মানবজীবন’।
কিছু দিন আগে সংবাদপত্রে দক্ষিণ কলকাতায় এক অনাথ আশ্রমে কয়েকটি শিশুর আত্মহত্যার উদ্যোগের কথা পড়েই চোখে ভেসে উঠেছিলো আনন্দকেন্দ্রের শিশুদের মুখগুলি। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে শিশুরা, মহিলারা রয়েছে এখানে। রয়েছেন বর্ষীয়ান কয়েকজন মানুষও। তাঁরা ছোটদের দাদু,দিদা। মহিলাদের মধ্যে মাসিমা, মেসোমশাই। মহিলারা বয়স্কদের কন্যাসমা, ছোটদের কারুর মাসী,কারুর পিসি পরিবারের  ক্ষুদ্রপরিসরের সকলে মিলে রান্না-বান্না,কাজ শেখা, আবাসের পরিছন্নতা বজায় রাখা, ছোটদের স্কুলে পাঠানো, বয়স্কদের দেখভাল, সকালে ব্যায়াম, সন্ধেয় ধ্যান, তারই ফাঁকে গান, নাচ, লেখাপড়া আবাসিকদের সারাদিনই হৈ হৈ ব্যস্ততা।পরিবারের ক্ষুদ্র পরিচয়ের অপূর্ণতা এখানে পরিপূর্ণতা পেয়েছে বৃহৎ এক পরিবারের মায়া মমতায়।এখানে রাধারানিরা রোজা রাখে হালিমাদের সঙ্গে। এখানে রুকসানা, সালমা, দুর্গা, পিঙ্কিরা এক যোগে ফুল কুড়িয়ে আনে। জবাদিদার ঠাকুর পূজার জন্য। চতুর্দিকে অনেক হানাহানি, রোষের খবরের মধ্যে আনন্দকেন্দ্র তাই অনেকের কাছেই আনন্দের উৎসব।