অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে ট্রাম্পের শরণাপন্ন বাংলাদেশের হিন্দুরা

0
Author Image মানস রায় ক্যালিফোর্নিয়া

সম্প্রতি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের কাছে লাফায়েট পার্কে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের উপর চলতে থাকা নিপীড়ন, নির্যাতন, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে এক সমাবেশে সামিল হলেন উত্তর আমেরিকার নিউ ইয়র্ক, নিউজার্সি, কানেকটিকাট, পেনসেলভিনিয়া, মেরীল্যান্ড, ওয়াশিংটন ও ভার্জিনিয়া  রাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশী হিন্দুরা। প্রচন্ড ঠান্ডা, হাড় কাপানো বাতাস উপেক্ষা করে কয়েকশো প্রবাসী নারী-পুরুষ-শিশু বিভিন্ন রকমের ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়। সম্মিলিত পূজা পুনর্মিলনীর আহ্বানে আয়োজিত সমাবেশটি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও আন্তর্জাতিক এবং বাংলাদেশী সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
সমাবেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর জে কানাসারা। সমাবেশে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং বিশিষ্ট মানবাধিকার নেতা শিতাংশু গুহ বলেন- বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন একটি দৈনন্দিন ঘটনা। আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হিন্দুরা অপেক্ষাকৃত কম নির্যাতিত হত, এখন সব আমলই সমান। গত সাত বছরে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার যেকোনও আমলের থেকে খুব একটা কম নয়। বিদায়ী বছরে এমন একটি দিনও হয়ত পাওয়া যাবে না যেদিন কোনও না কোনও সংবাদমাধ্যমে দেশের কোথাও না কোথাও হিন্দু মন্দির বা মূর্তি ভাঙচুর, হিন্দুর জমি দখল, নাবালিকা ধর্ষণ ও ধর্মান্তরিতকরণ বা দেশত্যাগের হুমকি ইত্যাদি খবর প্রকাশিত হয়নি।

demo3

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক নবেন্দু বিকাশ দত্ত। বাংলাদেশে হিংসা এবং সংখ্যালঘু সহ উপজাতি ও নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায়ের উপর শোষক শ্রেণীর নির্মম অত্যাচারের প্রতিবাদে স্মারকলিপি পাঠ করেন মাইনোরিটি রাইটস মুভমেন্টের মুখপাত্র ও কমিউনিটি এ্যাক্টিভিষ্ট শুভ রায়।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের উৎসব চক্রবর্তী, ‘ইন্ডিয়া কজ’-এর ফাউন্ডার প্রেসিডেণ্ট রমেশ গট্টী, ‘হরেকৃষ্ণ ফাউন্ডেশন’-এর সভাপতি রমেশ জয়পাল, জাস্টিজ ফর হিন্দুজ-এর সভাপতি ভিনসেণ্ট ব্রুনো,  নিউ জার্সি কমিউনিটি এক্টিভিস্ট অরুনা পাল, মেরীল্যান্ড হিন্দু কমিউনিটি নেতা সত্য বোস, নীলাচল.ডি.সি’র সভাপতি প্রানেশ হালদার, ভার্জিনিয়া হিন্দু কমিউনিটি নেতা দেবপ্রিয় দত্ত, কানেকটিকাট হিন্দু কমিউনিটি নেতা বিশ্বজিত চৌধুরী, বাংলাদেশ পুজা সমিতির সভাপতি অমিত ঘোষ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোশিয়েসনের সভাপতি বিশু গোপ, সম্মিলিত পুজা পুনর্মিলনীর যুগ্ম আহ্বায়ক ভজন সরকার, সম্মিলিত পূজা পুনর্মিলনীর আহ্বায়ক নির্মল পাল প্রমুখ।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর লাগাতার অত্যাচারের ঘটনায় ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে অপেক্ষিত সারা না পাওয়ায় আমেরিকার বাংলাদেশী হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের ভোটের সিংহভাগ ইসলামী সন্ত্রাসের কট্টর বিরোধী ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঝুলিতে পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তারা আশা করছেন ওবামা প্রশাসনের তুলনায় ট্রাম্প প্রশাসন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি অধিক সহানুভূতি দেখাবেন।
এখানে উল্লেখযোগ্য হল যে ‘ওভারসিজ ফ্রেন্ডস অব বেঙ্গল’ নামক একটি সংগঠন ছাড়া আমেরিকা নিবাসী ভারতীয় বাঙালিদের (যাদের বেশিরভাগ পূর্ববঙ্গ হতে বিতাড়িত) বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই।