কৃষ্ণাঙ্গ সমকামী সম্পর্ক নিয়ে সিনেমা, ঐতিহাসিকও বটে

অগ্নিভ নিয়োগী

0

এ’বছর অস্কারের মঞ্চে এমন এক ঘটনা ঘটে গেল যাতে হতবাক বিশ্ব। না সেরা ছবি নিয়ে বিভ্রান্তির কথা বলছি না। এ বছর অস্কারের সবচেয়ে বড়ো পাঁচটি পুরস্কার – সেরা ছবি, সেরা অভিনেতা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা সহ-অভিনেতা ও সেরা সহ-অভিনেত্রী – পেয়েছেন পাঁচজন কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি। গতবছর বিতর্কে জড়িয়েছিল অস্কার, কোনও কৃষাঙ্গ ব্যক্তি মনোনয়ন না পাওয়ায়। কিন্তু সেই ভুলের একরকম প্রায়শ্চিত্ত ঘটে গেল এবছর। বিজয়ীদের মধ্যে সেরা সহ-অভিনেতা মাহেরশালা আলী প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মুসলমান যিনি এই সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন। ঐতিহাসিক বটে। তাও আবার এমন ছবির জন্য যা আধারিত কৃষ্ণাঙ্গ সমকামী সম্পর্ক নিয়ে।
নভেম্বর মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিপুল জয়ের পর থেকেই মার্কিন সমাজ বিভক্ত। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় এসেই ট্রাম্পের প্রথম সিদ্ধান্ত ছিল মুসলমান দেশগুলি থেকে অভিবাসীদের মার্কিনমুলুকে ঢোকায় নিষেধাজ্ঞা জারি। মহামান্য মার্কিন আদালত এই সিদ্ধান্তকে নামঞ্জুর করে এবং বিশ্বজুড়ে ওঠে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড়। এমনকি অস্কারে বিদেশী ভাষার ছবির প্রাপক, ইরানের স্বনামধন্য পরিচালক আসগার ফারহাদি অনুষ্ঠান বয়কট করে নিজের প্রতিবাদ জানান। এমন একটা টালমাটাল সময়ে মাহেরশালা আলীর জয় (নিঃসন্দেহে অপূর্ব অভিনয়ের জন্য) এবং ‘মুনলাইট’-এর সেরা ছবি নির্বাচিত হওয়াটা তাৎপর্যপূর্ণ।

Moonlight-1-bitarka

ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপ-রাষ্ট্রপতি স্বঘোষিত সমকামী-বিদ্বেষী। ক্ষমতায় আসার পর ওবামা সরকারের রূপান্তরকামীদের ক্ষমতায়নের আইন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। রিপাবলিকান দলটিই এমনিতেই গোঁড়া মানসিকতার। রক্ষণশীল খ্রিষ্টানদের সমাজদর্শনেই চলে তারা। এমতাবস্থায় কৃষ্ণাঙ্গ সমকামীদের নিয়ে একটি ছবি যে সাড়া ফেলেছে তা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। গত একদশকে মার্কিনমুলুকে রাষ্ট্রপতি ওবামা এবং সুপ্রিমকোর্টের উদ্যোগে সমকামী বিয়ে স্বীকৃতি পায়। প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রাষ্ট্রপতি হওয়ার সুবাদে ‘আফ্রিকান আমেরিকান’দেরও সমাজের মূলস্রোতে আনার এক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন ওবামা। ট্রাম্পের শাসনকালে ঘনিয়ে আসছে অশনি সংকেত। তাই মুনলাইটের মতো ছবির গুরুত্ব অপরিসীম।
সমকামী বিবাহ আইনি স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে মার্কিনমুলুকে সমকামী যুবাদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা ১৪% কমে গেছে। শুধু ওই দেশেই নয় বিশ্বজুড়ে সমকামীদের অধিকারের লড়াই দৃঢ়তর হয়েছে। ভারতবর্ষেই অনেক নতুন শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘প্রাইডওয়াক’ যার ফলে অনেক পর্দার আড়ালে থাকা সমকামী মানুষ পায়ের তলার মাটি খুঁজে পাচ্ছেন। মুনলাইটের মত ছবি যখন বিশ্বের মঞ্চে সমাদৃত হয় তখন আশার একটা আলো দেখা যায়।
যে দেশে সমকামিতা এখনও আইনের চোখে দণ্ডনীয় অপরাধ, এমন এক দেশে মুনলাইটের মতো সিনেমা অবশ্যই জীবনযুদ্ধে টিকে থাকার ইন্ধন যোগায়।