খারিজি মাদ্রাসাগুলি বারুদের স্তূপ, কবে বুঝবে রাজ্য সরকার

গিয়াসুদ্দিন

0
madrasha

বাদুরিয়া-বসিরহাট দাঙ্গা প্রসঙ্গে লেখায় লিখেছিলাম, বসিরহাট এখনও ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি, যেকোনও সময় আবার জেগে উঠতে পারে, বাদুরিয়া ও বসিরহাটে না হলেও অন্য কোনও স্থানে যেকোনও সময় যেকোনও মুহূর্তে। কারণ, গোটা রাজ্যেই রয়েছে অসংখ্য আগ্নেয়গিরি। কথাটা কে কীভাবে নিয়েছেন জানি না, বলেছিলাম কিন্তু সচেতনভাবেই। আশঙ্কাটা যে অমূলক নয় তার  প্রমাণ পাওয়া গেল এনআইএ-এর সাম্প্রতিক রিপোর্টে। (সূত্রঃবসিরহাটের গন্ডগোলে অনুমোদনহীন মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা খুঁজে পেল এনআইএ, তদন্ত ) এনআইএ জানিয়েছে যে বসিরহাট দাঙ্গায় কিছু খারিজি মাদ্রাসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এবং খারিজি মাদ্রাসার বহু ছাত্র এই দাঙ্গায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ জানিয়েছে, সীমান্ত অঞ্চল বসিরহাটে সরকারি অনুমোদনহীন বেশ কয়েকটি খারিজি মাদ্রাসা রয়েছে, যেখানে বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠী বিশেষ করে বাংলাদেশের জেএমবি’র (জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ) নেতারা নিয়মিত আসে। তারা উস্কানিমূলক প্রচার থেকে কীভাবে বিভিন্ন জায়গায় সুকৌশলে গোলমাল পাকাতে হবে তার প্রশিক্ষণ দেয়। এনআইএ আরও জানিয়েছে, ২০১৪ সালে খাগড়াগড় বিষ্ফোরণকাণ্ডের পর মাঝে বেশ কিছুদিন খারিজি মাদ্রাসাগুলি নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছিল। তাছাড়া জেএমবি’র নেতৃত্ব নিয়ে সংকটের কারণে তাদের নেতাদের এ’রাজ্যে আনাগোনা কিছুটা কমেওছিল। নব্য জেএমবি চাঙ্গা হওয়ার পর খারিজি মাদ্রাসাগুলি আবার সক্রিয় হয়েছে এবং আবার নতুন উদ্যমে জিহাদি নিয়োগ করার কাজও শুরু করেছে। জঙ্গি সংগঠনগুলি প্রশিক্ষণ পদ্ধতিতেও কিছু পরিবর্তন এনেছে, আগে ভিডিও ও বক্তৃতার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হত, এখন জোর দেওয়া হচ্ছে উস্কানিমূলক বিভিন্ন প্রচারের ওপর। বিভিন্ন জায়গার গোলমালের ছবি দেখানো হয়, যার সমস্ত ফুটেজই জাল। এভাবে মাদ্রাসার অল্পবয়সী তালবিলিমদের তৈরী করা হচ্ছে, যাতে সহজেই তাদের দাঙ্গা লাগানোর কাজে ব্যবহার করা যায়। এনআইএ জানিয়েছে যে, প্রশিক্ষিত তরুণ ছাত্রদের দু’টো ভাগে ভাগ করে দেওয়া হয় যাদের একদলের দায়িত্ব হল বিভিন্ন জায়গায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উস্কানিমূলক প্রচার চালিয়ে তাদের উত্তেজিত করা এবং আর একদলের কাজ হল অপারেশন চালানো।

আরও পড়ুন: বাদুরিয়া দাঙ্গা: রাজ্য সরকারের নির্লজ্জ মোল্লাতোষণ নীতির বিষময় ফল

সম্প্রতি বাদুরিয়া-বসিরহাট দাঙ্গা নিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন যে বসিরহাট দাঙ্গায় বাংলাদেশের জামাতি ইসলাম জড়িত ছিল এবং তাদের লোকেরাই দাঙ্গাটা লাগিয়েছে। অবশ্য এ’জন্য তিনি তাঁর সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করেননি, সমস্ত দোষ চাপিয়েছেন বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সকারের কাঁধে। বলেছেন, বিএসএফ-ই সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের জঙ্গিদের ঢুকিয়েছে এখানে দাঙ্গা করানোর জন্য।    (সূত্রঃ বসিরহাটে দাঙ্গার পেছনে জামায়াত, বললেন মমতা )
মুখ্যমন্ত্রী দাঙ্গার পেছনে বাংলাদেশের জামাতি ইসলামের হাত আছে মেনে নিলেও কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যই অব্যক্ত রেখে দিয়েছেন। সেগুলির মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি হল, খারিজি মাদ্রাসার সঙ্গে বাংলাদেশের জঙ্গিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ থাকার কথা। এ’রাজ্যে তিন রকমের মাদ্রাসা আছে। যেমন হাই মাদ্রাসা, সিনিয়র মাদ্রাসা ও খারিজি মাদ্রাসা। প্রথম দু’শ্রেণির মাদ্রাসা সরকারি অনুমোদন ও অনুদান প্রাপ্ত। কিন্তু খারিজি মাদ্রাসাগুলি সরকারি অনুমোদনহীন। এই মাদ্রাসাগুলির সংখ্যা প্রচুর,  কমপক্ষে ৫/৬ হাজার হবে। এগুলি চলে মুসলমানদের জাকাত ও দান এবং সৌদি আরবের টাকায়। সৌদি আরব শুধু অর্থই দেয় না, জিহাদও রপ্তানি করে এই মাদ্রাসাগুলির মাধ্যমে। এই মাদ্রাসাগুলি কী পড়ায়, কী শেখায়, কী তাদের সিলেবাস, ছাত্র কারা ও কোথা থেকে আসে, কারা শিক্ষক, তাঁরা কোথা থেকে আসেন, সে সব বিষয়ে রাজ্য সরকার চোখে ঠুলি ও কানে তুলো দিয়ে থাকে। তবে খারিজি মাদ্রাসায় যে মূলতঃ ইসলামি শিক্ষা (কোরান, হাদিস ও ফিকাহ) দেওয়া হয় তা বলা বাহুল্য।  জিহাদ যেহেতু ইসলামের অঙ্গ, তাই খারিজি মাদ্রাসার সিলেবাসে জিহাদ যে থাকবে তা বলা বাহুল্য।
জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) একটি ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী জিহাদি সংগঠন। এই জেএমবি ২০০৫ সালে বাংলাদেশে ১৭ই আগষ্ট ৬৩টি জেলায় ৩৭৬টি জায়গায় সিরিজ বোমা-বিষ্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তাদের লক্ষ্য হল বাংলাদেশে ইসলামি রাষ্ট্র স্থাপন করে ইসলামি আইনের বাস্তবায়ন করা। সিরিজ বোমা-বিষ্ফোরণের প্রাক্কালে প্রচারপত্রে বলেছিল, ‘‘কোনও মুসলিম ভূখণ্ডে আল্লাহর বিধান ছাড়া অন্য কোনও বিধান চলতে পারে না। …. দেশের জেলা থেকে রাজধানী পর্যন্ত … আদালত গঠন করে যে বিচারকার্য পরিচালনা করা হচ্ছে তার মূল ভিত্তি হচ্ছে মনুষ্য রচিত সংবিধান। … কথা ছিল একজন মানুষ হিসেবে মানুষের কাজ হবে আল্লাহর দাসত্ব করা এবং আল্লাহর বিধানের আনুগত্য স্বীকার করা।  … জামা আতুল মুজাহিদিন এর কর্মীরা আল্লাহর সৈনিক। আল্লাহর আইন বাস্তাবায়ন করার জন্য এরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছে। যেমন তুলে নিয়েছিলেন নবী রাসুল, সাহাবি এবং যুগে যুগে বীর মুজাহিদিনগণ।” জেএমবি’র দুই শীর্ষ নেতা বাংলাভাই ওরফে সিদ্দিকুল ইসলাম এবং সায়খ রহমানের আদালতের রায়ে ফাঁসি দেওয়া হয়। খাগড়াগড় বিষ্ফোরণ কাণ্ডে ঘটনাস্থলেই শাকিল গাজী নামে যে জঙ্গি মারা যায় সে ছিল জেএমবির সদস্য। খাগড়াগড় বিষ্ফোরণ কাণ্ডের প্রধান হোতা সাজিদ ওরফে মাসুদ যে এনআইএ’র জালে ধরা পড়েছিল সে ছিল জেএমবি-র শীর্ষ নেতা, যার স্থান ছিল বাংলাভাই ও শায়খ রহমানের পরেই।
এই কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন জেএমবি (এখন নব্য জেএমবি) এ’রাজ্যে বিভিন্ন স্থানে খারিজি মাদ্রাসায় তাদের ঘাঁটি গেড়েছে এবং জিহাদি পাঠ ও প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। খাগড়াগড় কাণ্ডে এটা প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে যে শুধু সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতেই নয়, গোটা রাজ্যেই তাদের নেটওয়ার্ক কাজ করছে। ফলে শুধু সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিই নয়, গোটা রাজ্যই এখন দাঁড়িয়ে আছে বারুদের স্তূপের ওপর। আর বসিরহাটই শুধু ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরি নয়, গোটা রাজ্য জুড়েই এরূপ অনেক আগ্নেয়গিরিই হয়ত ঘুমিয়ে রয়েছে আমাদের নজরের বাইরে।
খারিজি মাদ্রাসাগুলিই যেহেতু ইসলামি জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তাই এই মাদ্রাসাগুলোর কাজকর্ম সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকতে পারে না। কারণ এই মাদ্রাসাগুলি ক্রমশঃই শান্তি-সম্প্রীতি এবং দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাছে একটি বড়ো হুমকি হয়ে উঠেছে। দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কাছে মাদ্রাসাগুলি যে একটা বড়ো হুমকি হয়ে উঠেছে তার প্রমাণ খাগড়াকাণ্ড ও বাদুরিয়া-বসিরহাট দাঙ্গা। খাগড়াগড়ে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী করার যেসব সরঞ্জাম পাওয়া গিয়েছিল সেগুলি বিশেষজ্ঞদের মতে কেবল যুদ্ধেক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বিষ্ফোরণ স্থল থেকে ৫০টিরও বেশী আইইডি (ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) ও প্রচুর পরিমাণে রাসায়নিক বিষ্ফোরক দ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন যে, এগুলো একসঙ্গে বিষ্ফোরিত হলে দশ হাজার মানুষ মারা যেতে পারে। সে সময়ে এনআইএ জানিয়েছিল যে, পশ্চিমবঙ্গের বহু জায়গাতেই জেএমবি’র আইইডি তৈরী করার কারখানা রয়েছে এবং তারা খারিজি মাদ্রাসা থেকেই তাদের এই সমস্ত জিহাদি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। পশ্চিমবঙ্গের এই সব ঘাঁটি থেকে তারা গোটা ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিত।
NIA officials
এনআইএ’র তদন্তকারীরা যখন বর্ধমানের শিমুলিয়ায়।
এ’কথা স্পষ্ট যে, খারিজি মাদ্রাসাগুলোর উপর যদি সরকারি নজর ও নিয়ন্ত্রণ না থাকে তবে এই মাদ্রাসাগুলিই সমগ্র দেশের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ভয়ঙ্কর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এ’কথা বোঝানোর চেষ্টা আমি অনেক দিন থেকেই করে আসছি। কিন্তু যাদের সবার আগে এটা বোঝার কথা এবং জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে কঠোর হাতে দমন করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থকে সুরক্ষিত রাখার কথা, তারা কেউই বোঝার চেষ্টা করছে না। সব সরকারই দেশ ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থকে বলি চড়াচ্ছে দলীয় স্বার্থের যূপিকাষ্ঠে। পাছে মুসলমান জনগণ অসন্তুষ্ট হয় তাই খারিজি মাদ্রাসাগুলির উপর নজর রাখছে না, এমনকি যেসব মাদ্রাসার বিরুদ্ধে জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগাযোগের মারাত্মক অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করছে না। বামফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য একবার এই সব মাদ্রাসাগুলির বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেবার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। ২০০২ সালে ২৪শে জানুয়ারী বলেছিলেন, ‘কিছু মাদ্রাসায় জাতীয়তাবিরোধী প্রচার হছে এবং তার নির্দিষ্ট খবর আমাদের কাছে আছে। সেটা আমরা কখনই করতে দিতে পারি না।’ তার চারদিন পর আবার বলেছিলেন, ”অনুমোদন না থাকা সকল মাদ্রাসাকে মূলস্রোতের সঙ্গে মিশতে হবে। তাদের মাদ্রাসা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে।” কিন্তু ঐ হুঁশিয়ারি পর্যন্তই। বুদ্ধদেব বাবুর ঐ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মোল্লা-মুফতি ও মুসলিম বুদ্ধিজীবীগণ পাল্টা সরকারের বিরুদ্ধে রে রে করে তেড়ে গেলে তিনি লেজ গুটিয়ে পশ্চাদপসারণ করেন এবং মহাকরণে মোল্লা-মুফতিদের ডেকে খারিজি মাদ্রাসার কাজে আর নাক গলাবেন না বলে মুচলেকা লিখে দেন। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ করে সেদিন লিখেছিলাম, ”তাই তো পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশঃ ইসলামি জঙ্গিদের নিরাপদ বিচরণভূমি হয়ে উঠতে পেরেছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক বিস্তার ও স্থাপনে কলকাতা আজ প্রশস্ত ও নিরাপদ করিডর হয়ে উঠেছে।” (সূত্রঃ মুসলিম সমাজ বনাম ফতোয়া সন্ত্রাস, গিয়াসুদ্দিন, পৃ-১৩১)
মুসলিম ভোটের স্বার্থে মোল্লা-তোষণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুদ্ধবাবুদের চেয়ে বহু কদম এগিয়ে তা বলা বাহুল্য। ফল হয়েছে এই যে,  যে পশ্চিমবঙ্গকে বিদেশী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি বামফ্রন্ট শাসনে  ‘সেফ করিডর’ মনে করত সেটা এখন তাদের ঘাঁটিতে রূপান্তরিত হয়েছে। ঘাঁটিতে রূপান্তরিত যে হয়েছে তার প্রমাণ খাগড়াগড় বিষ্ফোরণকাণ্ড। তারপরেও কিন্তু তৃণমূল সরকার সতর্ক হয়নি। এনআইএ যখন ঐ বিষ্ফোরণকাণ্ডের সঙ্গে জেএমবি ও কতিপয় খারিজি মাদ্রাসার সম্পৃক্ত থাকার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছে তখন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, ত্বহা সিদ্দিকি প্রমুখ ধর্মীয় নেতারা ‘সব মিথ্যা ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র’ বলে হৈ হল্লা শুরু করেন এনআইএ ও কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তখন ঐ ধর্মীয় নেতাদের তুষ্ট করতে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে বলি দিয়ে বিষ্ফোরণকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত জঙ্গি ও মাদ্রাসাগুলিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছেন। এর ফল যে কত মারাত্মক হয়েছে তা আমরা দেখলাম বাদুরিয়া-বসিরিহাট দাঙ্গায়। খারিজি মাদ্রাসাগুলিতে বসে দেশী-বিদেশী জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা বাঁধানোর ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনা করা শুরু করেছে। কিন্তু এনআইএ’র এমন মারাত্মক রিপোর্টও তৃণমূল সরকারকে বিচলিত করতে পেরেছে বলে মনে হয় না। কারণ, মুখ্যমন্ত্রীকে দেখছি যে তিনি মোল্লা-তোষণ নীতি থেকে একচুলও নড়েননি। তিনি মাওলানা ও পীরজাদাদের তুষ্ট করার জন্যে বাদুরিয়া-বসিরহাট দাঙ্গাতেও অভিযুক্ত মাদ্রাসা ও জঙ্গি মুসলমানদের আড়াল করলেন এবং সব দোষ চাপালেন বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের ঘাড়ে। ঐ দাঙ্গায় বিজেপিও যুক্ত হয়েছিল বলে খবর পাওয়া গেছে। বিজেপির অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিক সরকার, আমি চাই। কিন্তু বিজেপিই দাঙ্গা লাগিয়েছে, আর যারা প্রথম হিন্দুদের উপর আক্রমণ করল, বাড়িঘর ও দোকানপাট জ্বালিয়ে দিল তারা নির্দোষ?
মোল্লা-মুফতি ও পীরজাদাদের তুষ্ট করলে মুসলিম মৌলবাদী ও জঙ্গিদের হাতই শুধু শক্ত হবে না, হাত আরও শক্ত হবে সঙ্ঘপরিবারেরও। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মাদ্রাসা ও মুসলিম জঙ্গিদের যত আড়াল করবে হিন্দুরা তত বেশী বিজেপির পতাকার নীচে গিয়ে আশ্রয় নেবে। আর এর পরিণতিতে পশ্চিমবঙ্গের মাটি ধীরে ধীরে হিন্দু মৌলবাদী ও মুসলিম মৌলবাদীদের দাঙ্গার আখড়ায় পরিণত হবে।