রমজান শেষে এল খুশির ঈদ, পুণ্যমাসে ‘ভক্ত’দের হাতে খুন হলেন দেড় হাজার মানুষ

মানস রায়

0
pakistan blast

পুণ্যমাস ‘মাহে রমাদান’। উপমহাদেশে রমজান শব্দটিই চালু গত কয়েকশো বছর ধরে। কিন্তু নিজেদের আরবীয় উত্তরাধিকারকে জাহির করার যে ওয়াহাবী অসুখ জাকিয়ে বসছে তার এক নমুনা রমজান ক্রমশ: পরিণত হচ্ছে রমাদানে। যাকগে, রমাদান বা রমজানের কথায় ফেরা যাক। ইসলামী ক্যালেন্ডারের সবচেয়ে পুণ্যমাস এই রমজান। শান্তির পূজারীরা সারাটা মাস ধরে দিনের বেলা নির্জলা উপবাস করে, আসমানী কিতাব পড়ে, শুভচিন্তা করে কাটান। সূর্য অস্ত গেলে গোটা পরিবার একত্রে উপবাস ভঙ্গ, ভালো মন্দ খাওয়াদাওয়া, গরীবকে জাকাত দেওয়া, আত্মীয় স্বজনের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা, কত কি করার মাস রমজান। এই মাসে কুকথা, কুচিন্তা, ঝগড়াঝাটি, ধুমপান সব নিষিদ্ধ। দিবাভাগে যৌন সঙ্গম নিষিদ্ধ এবং দন্ডনীয়। যুদ্ধ ও কাউকে আক্রমণ করাও নিষিদ্ধ। তবে আক্রান্ত হলে প্রতিআক্রমণে বাধা নেই।
এসব তো ভালো ভালো (politically correct) কথা। বাস্তব কি বলছে? বাস্তব বড় করুণ। এই পুণ্যমাসে শান্তির পূজারীদের কার্য্কলাপে খুন হয়েছেন ১৬০০ এর বেশি মানুষ। আহতদের গুণলে এই সংখ্যা হবে চার হাজারের বেশি। শান্তির পূজারীদের আক্রমণ কোনও একটি দেশ বা মহাদেশে সীমাবদ্ধ নয়, এই আক্রমণ চলেছে সারা দুনিয়া জুড়ে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইরাক, ইরান, সিরিয়া, মিশর, সোমালিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইনস ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই আক্রমণের নবীনতম নিশানা হল মক্কার কাবা মসজিদ। চেয়ারম্যান মাও-এর কথা ধার করে বলা যায় ‘সদর দফতরে কামান দাগা’। মাও-এর চেলারা (রেড গার্ড) খোদ চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাদের কাপড় খুলে ছেড়েছিল, ঠিক তেমনি এবার মনে হয় আইএসআইএস/আলকায়দার নেক বান্দারা তাদের গুরু ও অর্থদাতা ওয়াহাবীদের সাম্রাজ্যেও হানা দেবে ঠিক করেছে।
এত জায়গায় এত রক্তপাতের ফর্দ দিতে গেলে লেখা হবে অনাবশ্যক দীর্ঘ। তাই বিভিন্ন দেশের কিছু নমুনা নিচে দেওয়া গেল যাতে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষরা এটা ইসলামফোবিকদের অপপ্রচার বলে হইচই না করতে পারে।
শুরু করা যাক ২৭শে মে ২০১৭ বা ১লা রমজান, হিজরী থেকে। পুণ্যমাসের একটি দিনও খালি যায়নি যেদিন শান্তির পূজারীরা বিশ্রাম নিয়েছিল, করেনি খুন খারাবি।
২৭ মে : ফিলিপিন্সে ১৯ জন মহিলা ও শিশুকে হত্যা।
২৮ মে : সোমালিয়া, নারীঘটিত অভিযোগে মাটিতে পুঁতে হত্যা এক ব্যক্তিকে।
২৯ মে : নাইজিরিয়া, পাঁচ জনের শিরচ্ছেদ।
৩০ মে : বাগদাদ, ১৪ জন শিয়াকে হত্যা।
৩১ মে: কেনিয়া, বোমা বিস্ফোরণে আটজন নিহত।
১ জুন : জার্মানি, রমজান মাসে ধুমপান করার অপরাধে নিহত।
২ জুন : ক্যামারুন, ১১ জন নিহত।
৩ জুন : লন্ডন, সাতজন নিহত।
৪ জুন : ইরাক, ৩২ জন নিহত।
৫ জুন : মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া, একজন নিহত।
৬ জুন : প্যারিস, নোতরদাম ক্যাথিড্রালের বাইরে পুলিশের ওপর আক্রমণ।
৭ জুন : তেহরান, ইরান, নিহত ১২।
৮ জুন : সোমালিয়া, ৭০ জন নিহত।
৯ জুন : কারবালা, ইরাক, ৩০ জন নিহত।
১০ জুন : শিরকত, ইরাক, ৩৮ জন নিহত।
১১ জুন : হরিপুর, পাকিস্তান, সাংবাদিক হত্যা।
১২ জুন : ইয়েমেন,  দু’জন নিহত।
১৩ জুন : বিশ্রাম!
১৪ জুন : নাইজিরিয়া, পাঁচজন নিহত।
১৫ জুন : থাইল্যান্ড, একজন নিহত।
১৬ জুন : ইজরায়েল, একজন নিহত।
১৭ জুন : মালি, পাঁচজন নিহত।
১৮ জুন : নাইজিরিয়া, ১২ জন নিহত।
১৯ জুন : থাইল্যান্ড, ৬ জন নিহত।
২০ জুন : বেলজিয়াম, জিহাদী আক্রমণ। নিহত এক জিহাদী।
২১ জুন : মিশিগান, আমেরিকা, মহিলা পুলিশের ওপর আক্রমণ।
২২ জুন : হেলমন্দ, আফগানিস্তান, ৩০ জন নিহত।
২৩ জুন : করাচি, দু’জন নিহত।
২৪ জুন : মক্কায় হামলা। জিহাদী নিহত।
২৫ জুন : চাঁদ দেখা গেছে। শান্তির মাস শেষ, খুশির ঈদ মুবারক।
তথ্যসূত্র: http://www.breitbart.com/national-security/2017/06/07/ramadan-rage-2017-complete-list-jihadist-attacks-around-world/