মিতালি-ঝুলনরা আর কত রেকর্ড করলে সচিন-বিরাটদের সমমর্যাদা পাবে?

সমর্পিতা ঘটক

0
mithali raj and jhulan

চলতি মহিলাদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে শেষ ম্যাচে ভারত অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হলেও মিতালি রাজ কিন্তু খবরের শিরোনামে, কারণ ভারতীয় দলের অধিনায়ক মিতালি ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের শার্লট এডওয়ার্ডসের ৫৯৯২ রানের মাইল ফলক পেরিয়ে তিনি আজ ৬০০০ রানের ক্লাবের প্রথম সদস্যা। এই বিশ্বকাপেই তিনি আরও একটি রেকর্ড করেন। বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ৭১ রানের ইনিংসের মাধ্যমে দুটি বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী হন মিতালি। এই ইনিংসের মাধ্যমেই টানা সাতটি ম্যাচে অর্ধ শতক এবং মহিলা ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বাধিক অর্ধশতকের অধিকারী হন তিনি। ১৬ বছর বয়সে ভারতীয় দলে সুযোগ পাওয়া মিতালি যুঝে গিয়েছেন অনেক না পাওয়া, বঞ্চনা আর অবহেলার সঙ্গে গত আঠারো বছর ধরে। ঝুলন, মিতালি এবং বাকি মহিলা ক্রিকেটারদের গল্পটা ওই একই। প্রসঙ্গত কিছুদিন আগেই ঝুলন গোস্বামীও সর্বাধিক উইকেট সংগ্রহকারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। কঠিন অধ্যাবসায়, ক্রিকেটের প্রতি অফুরান ভালোবাসা, খেলার বাইরে অন্য কিছুকে তোয়াক্কা না করে এমন একটি খেলা এই উপমহাদেশে খেলে যাওয়া (যে খেলায় ভারতীয় পুরুষদের রাজত্ব প্রশ্নাতীত) আসলে অসীম ধৈর্য এবং স্থৈর্যের উদাহরণ।
indian women cricket team
ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট টিম।
ভারতীয় ক্রিকেট বলতেই তো আসলে সচিন, সৌরভ, বিরাটদের মৌরুসিপাট্টাই বোঝায়। মহিলা ক্রিকেট দলের না আছে স্পনসর, না আছে মিডিয়ায় মাতামাতি, না আছে দর্শক। মিতালিদের ঝুলিতে রেকর্ড, পরিসংখ্যান, পুরস্কার কম নেই, কিন্তু গুরুত্ব, সম্মান আর আদর এতই নগণ্য যে লজ্জা হয়। তাই হয়তো মিতালিকে যখন সাংবাদিক তাঁর প্রিয় পুরুষ ক্রিকেটারের নাম জিজ্ঞাসা করেন, তখন মিতালির চোয়াল শক্ত হয় আর উত্তরে না-পাওয়াগুলো, বঞ্চনাগুলোই প্রতিফলিত হয়। সত্যিইতো কখনো কোনওদিন বিরাটদের জিজ্ঞাসা করা হয় না ঝুলন, মিতালিদের পারফরম্যান্স নিয়ে! আর কঠিন বাস্তব হল যে মহিলা ক্রিকেট নিয়ে প্রচার এতই সামান্য যে দর্শক, বিশেষজ্ঞ, খেলোয়াড়দের জ্ঞানও যৎসামান্য, তাই অজান্তেই তুলনা হোক কিংবা রেফারেন্স হোক সবই সেই পুরুষ ক্রিকেটারদের ঘিরেই আবর্তিত।
মিতালিরা আসলে খেলাটা ভালবেসেছেন- গ্ল্যামার গার্ল বা ফ্যাশনিস্তা হওয়ার ইচ্ছা ওদের ছিল না তাই প্রচারের আলো কম ওদের ওপর। মহিলা খেলোয়াড়দের জনপ্রিয় হওয়ার অন্যতম শর্তই যেন গ্ল্যামারের গড্ডালিকায় গা ডুবিয়ে দেওয়া, পারফরম্যান্স-ট্যান্স তার পরের কথা। মিতালি, ঝুলনরা এটাই করেননি, সস্তা জনপ্রিয়তার রাস্তা মাড়াননি ওঁরা, কিন্তু ওঁদের সাফল্যই আজ ওঁদের হয়ে কথা বলছে। অপেক্ষা করে থেকেছেন ছবিটা বদলানোর। আর ছবিটা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। যখন দেখি মিতালিকে করা একপেশে প্রশ্নের প্রতিবাদে এবং তাঁর জবাবের সমর্থনে দেশের এবং বিদেশের সতীর্থ খেলোয়াড়রা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন তখন আশা হয় বৈকি! মহিলা বিশ্বকাপ ৫০ ওভারের বদলে ৩০ ওভারে কমিয়ে আনা নিয়ে ওয়াকার ইউনিসের বক্তব্য যথেষ্ট সমালোচিত হয় কিছু দিন আগেই। হরমনপ্রীত কৌর, বেদা কৃষ্ণমূর্তি, মোনা মেশরাম, পুনম রাউত, দীপ্তি শর্মা, শিখা পাণ্ডে, একতা বিস্ত, সুষমা বার্মা, মানসি যোশী, রাজেশ্বরী গায়কোয়াড়, পুনম যাদব, নুজহাত পারভীন এবং স্মৃতি মান্ধানাদের লড়াইয়ের পথটা তাই কিছুটা হলেও মসৃণ হচ্ছে।