পুজোয় খান পেট ভরে, প্রাণ ভরে নয়

সুবর্ণা ম‍ৈত্র

0

পুজোর সময়ে ডায়েট ? পুজোর সময়েও ডায়েট ???
মা মাসি জেঠি পিসি বন্ধু বান্ধব প্রেমিক প্রেমিকা সব্বাই রে রে করে উঠছে পুজোর সময়ে ডায়েট মেনটেন করার কথা বললে । আর রে রে করাই স্বাভাবিক । তবে কিনা, পুজো্র কটা দিনের জন্য সারাবছরের যে অপেক্ষা, তা শুরু হতে না হতেই শেষ, পলক ফেলতে না ফেলতে বিসর্জন এসে পড়ে, আর তারপর সেই রুটিনমাফিক আপিস কাছারি-ইশকুল-কলেজ শুরু । প্রি-পুজো ফ্রেঞ্চ লিভ তো নিতেই হয়েছিল শপিং টপিং এর জন্য, পোস্ট পুজো লিভ নিয়ে যাতে বসের চক্ষুশূল না হতে হয় সেজন্যই ডায়েট জরুরি । আর ডায়েট প্ল্যান করার বেস হল কী খাবো আর কতটা খাবো

প্রথমে, কী খাবো

ইতালিয়ান, লেবানিজ, থাই, স্প্যানিশ, মেক্সিকান, নর্থ ইন্ডিয়ান – হেন খাবার নেই যা এখন কলকাতায় পাওয়া যায় না । ফলে পুজো স্পেশাল মেনুতে এইসব তো থাকবেই । তবে কিছু আইটেম যদি প্রথমেই শর্টলিস্ট করে নেওয়া যায়, তাহলে সুস্থ থাকা গ্যারান্টিড ।

যেমন, যে ডেলিকেসিই খাই না কেন, যত নামকরা রেস্তোঁরাতেই খাই না কেন, খাবার তালিকায় ফল আর সব্জী এই দুটি আইটেম অবশ্যই থাকুক, বেশি করে থাকুক, মাংস বা মাছ তুলনায় কম থাকুক ।

মাংস-র ক্ষেত্রে নতুন কিছু আইটেম পুজোর সময়ে চেখে না দেখাই ভাল, কারণ অ্যালার্জি হলে পুজো মাটি । বেশি মিষ্টি বা ক্রিম দেওয়া আইটেমকেও একটু সমঝে চলা ভাল ।

এবার, কতটা খাবো —

 এর একটাই উত্তর, কম খান । যখনই মনে হবে পেট ভরে গেছে, তখনই দাঁড়ি টানুন । কোনও অনুরোধ উপরোধের  ফাঁদে পড়বেন না, প্রয়োজন হলে বাড়তি খাবার প্যাক করে নিন, কিন্তু বাড়তি খেয়ে উশুল করতে যাবেন না ।

mexican-food-2462

সবশেষে সার সংক্ষেপ —

  • সকালে পেট ভরে বাড়িতে বানানো খাবার খেয়ে ঘুরতে বেরোন
  • অন্য পানীয় নয়, জল সংঙ্গে রাখুন
  • ঠাকুর দেখতে দেখতে ক্লান্ত হলে খিদে পেলে তবেই খান, পুজোয় বাইরে খেতেই হবে শুধুমাত্র এই ভাবনা থেকে খাবেন না ।
  • চিপস, চানাচুর এড়িয়ে চলুন । একইভাবে রাস্তার খাবার, যেমন ফুচকা, ভেলপুরি ইত্যাদির দিকে তাকাবেন না ।
  • হাল্কা সহজপাচ্য এবং চেনা খাবারই খাওয়ার চেষ্টা করুন ।
  • চা, কফি কম খান
  • দুধ বা দুধজাত খাবার কম খান
  • রেস্তোঁরায় হাল্কা তেল, যেমন অলিভ অয়েল, ভেজিটেবিল অয়েলে রাঁধা আইটেম বেছে নিন
আর শেষ কথা সেই শুরুর কথাই, পুজোয় খান পেট ভরে – প্রাণ ভরে নয় ।