কমলালেবু কেন খাবেন?

সুদেষ্ণা

0

শীতের মরসুমে যে ফলটি বাজারে সবচাইতে বেশি দেখা যায় সেটি হল কমলালেবু। এই ফলটি খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি আমাদের স্বাস্থের জন্যও কার্যকরী। দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। কমলালেবুতে সবচেয়ে বেশী পরিমাণে রয়েছে ভিটামিন ‘সি’ উপাদান। প্রতি ১০০ গ্রাম কমলালেবুতে  ভিটামিন ‘বি’ আছে ০.৮ মিলিগ্রাম, ‘সি’ ৪৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩৩ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৩০০ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ২৩ মিলিগ্রাম।
আসুন এবার জেনে নিই কেন এই ফলটি আমাদের সকলের খাওয়া উচিত-
১। কমলালেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ‘সি’ আছে, যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’-এর অভাব পূরণ করে এবং দ্রুত সর্দি-কাশি সারিয়ে তোলে। কমলালেবু খেলে খিদে বাড়ে, খাওয়ার রুচি, শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায় ও ক্লান্তি দূর হয়।
২। ত্বকের সজীবতা ধরে রাখতে কমলালেবুর জুড়ি নেই। কারণ, কমলালেবুর অনেকখানি অংশ জুড়ে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যা শীতে ত্বকের নমনীয়তা ধরে রাখতে সহায়তা করবে। শরীরের মেদ ঝরাতেও কমলালেবু সাহায্য করে।
৩। কিডনি ভালো রাখতে কমলালেবু ভীষণ কাজের। উচ্চ সাইট্রেট উপাদান কিডনি ভালো রাখে ও কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমিয়ে দেয়।
৪। প্রতিদিন ৭৫০ মিলি গ্রাম কমলালেবুর জুস গ্রহণ করলে আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমে গিয়ে উপকারী কলেস্টেরল উৎপন্ন করে। তাই দেহের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে প্রতিদিন একটা করে হলেও কমলালেবু খাওয়া উচিত।
৫। কমলালেবুর ম্যাগনেসিয়াম উপাদান উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। যারা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত তারা কমলালেবু খেতে পারেন নির্দ্বিধায়।
৬। কমলালেবুর আরও একটি অন্যতম উপাদান হল বিটা ক্যারোটিন। কমলালেবুতে উপস্থিত বিটা ক্যারোটিন সেল ড্যামেজ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৭। কমলালেবুর ভিটামিন ‘সি’ উপাদান আমাদের শরীরে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের শরীরের কোলন ক্যান্সার (colon cancer) ও ব্রেস্ট ক্যান্সারের(breast cancer) অন্যতম সেল প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
৮। কমলালেবু একটি উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ ফল। ‘‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍‍দি নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন’এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে লেখা হয়েছে, উচ্চ ফাইবার আমাদের শরীরের সুগারের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কমলালেবু গ্রহণের বিকল্প হয় না।