ড্রাগনের হুঙ্কার ও ভারতের কমিউনিস্টরা

0
Author Image মনোজিৎ ধর

India china
১৯৬২ সালের যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে উন্নয়নশীল ভারতের প্রতি-স্পর্ধাকে চিন দমন করতে চাইছে। ধমকে চমকে নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম করতে চাইছে। ভুটানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ডোকা লা’য় অবস্থানকারী ভারতীয় সৈনিকদের ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়ার হুমকিই শুধু নয়, ১৯৬২ সালের থেকেও খারাপ পরিণতি হবে বলে ভারতকে হুমকি দে‍ওয়া হচ্ছে। পিপলস ডেইলি নিয়ন্ত্রিত ইংরেজি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস তার সম্পাদকীয়তে লিখছে –Using the excuse of “helping Bhutan protect its sovereignty,” India brazenly obstructs China’s road construction in Chinese territory….The country has to pay for its provocations.
ভুটানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সাহায্য করবার অপরাধে ভারতকে উপযুক্ত মূল্য দিতে হবে। অর্থাৎ যুদ্ধের হুমকি। শুধু তাই নয়, চিন যে সিকিম-সহ সমগ্র উত্তর-পূর্বে অশান্তি বাঁধানোর ষড়যন্ত্র করছে তাও স্পষ্ট দৈনিকটির লেখায় – With certain conditions, Bhutan and Sikkim will see strong anti-India movements, which will negatively affect India’s already turbulent northeast area and rewrite southern Himalayan geopolitics.
communism in Indiaভারতের পক্ষে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, ১৯৬২ সালের ভারত আর ২০১৭ সালের ভারত এক নয়। ১৯৬২ সালে অরুণাচল সীমান্তে হেরে যাওয়ার শিক্ষা ভারত ভুলে যায়নি বলেই এবার ভারতীয় সেনা আরও ভালোভাবে  যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। অরুণ জেটলির বক্তব্যকে নির্ভুল বলা যায় না, কারণ, ১৯৬২ সালে যারা চিন কর্তৃক ভারতের জমি দখলকে আগ্রাসন বলে মানতে না চেয়ে চিনের পক্ষে বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিল –‘চিন সেই ভূ-খন্ডেই প্রবেশ করেছে যে ভূ-খন্ডকে তারা তাদের নিজেদের বলে মনে করে। সুতরাং চিনের তরফে অনুপ্রবেশের প্রশ্নই ওঠেনা’, যাদের সমর্থনে কালিম্পং ও কার্শিয়াং হয়ে উঠেছিল চিনা গুপ্তচরদের আখড়া, যারা সেই সময় পরিবহন ধর্মঘট ডেকে ভারতীয় সেনার অগ্রগতিকে রুখে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল, চিনপন্থী সেই কমিউনিস্টরা এখনও চিনের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে এই মাটি, বায়ু ও জলকে আপন করে নিতে পারেনি! ১৯৬২ সালে ভারতে অবস্থানকারী এই চৈনিক দাসদের  হৃদয় যেভাবে নেচে উঠছিল, ২০১৭ সালেও ঠিক সেভাবেই তাদের হৃদয়ে দোলা লেগেছে  ড্রাগনের  পরপর হুঙ্কারে।
.
যারা প্রায়শই ‘যুদ্ধ নয় শান্তি চাই’ বাণী আওড়াতে আওড়াতে শান্তির সাদা পায়রা ওড়ায়, নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন লাগিয়ে নিজেদের যুদ্ধ-বিরোধী অবস্থানকে প্রগতিশীলতার মোড়কে উপস্থাপন করে, তারাই যখন চিনের যুদ্ধের হুঙ্কারকে বিরোধিতা না করে একদম নিশ্চুপ থাকে তখন তাদের যুদ্ধ বিরোধী মিছিলকে  মিথ্যাচার এবং ভাঁওতাবাজি বলেই মনে হয়। এদের ভারত বিরোধী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয় যখন এরা নিজ দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে চিনের অবস্থানকে সমর্থন করে।