নতুন বছরে চারটি কবিতা

0

নতুন বছরের কবিতা

বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
চাই না রক্ত পথেঘাটে
রক্তে চিনি চাই না, নুন
থাকলে থাকুক অল্প একটু
বিশ্বাসেই তো হয় নতুন
 # পুরোনো দিন, পুরনো মাস,
পুরোনো সব পার্বণ আর
নতুন আলোর গলায় দোলে
পুরোনো এক অন্ধকার
# সর্পে সেই তো রজ্জু আমার
রজ্জুতে সে সর্পভ্রম
দূর থেকে হালখাতা লাগে
হৃদমাঝারে ঝুঁকলে, মন
# সেই তো নামায়, সেই তো ওঠায়
সেই তো চোবায় সমুদ্রে
অসুখ ভেবে ডরাই যাকে
সে আসলে ওষুধ রে
# খাওয়ার আগে হাতে তো নাও
সরিয়ে দেখা সব মোড়ক
দৃশ্যকাব্য প্রাচীন কিন্তু
ভিজিয়ে দিচ্ছে নতুন চোখ
# মাতৃক্রোড়ে শিশু নতুন
বনে নতুন বন্যেরা,
তুমি যাকে ফেলবে তাকেই
কুড়িয়ে নেবে অন্যেরা।

বিকল্প

বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
রাতের বদলে অন্ধকারকে দেখে
আমি একা নয়, ভয় পাবে প্রত্যেকে
ভয়ের বদলে যদি সংশয় আসে
শুধু হাত নয় কাঁটাতার চারপাশে
তারের বদলে সেতার বাজছে ওই
বঁটিতে কাটার পরেও জ্যান্ত কই
মরতে মরতে জাগিয়ে তুলেছে প্রাণ
বদলে ফেলব বলেই তো সন্ধান
নদী-পর্বত-সমুদ্র আর ঘর
তোমার পাঁজরে শ্রীরাধার অন্তর…
রাধার বদলে চাইতেও পারি মীরা
আলো না জ্বললে, জ্বলবে না জোনাকিরা?

শান্তিগজানোর গান

যশোধরা রায়চৌধুরী
মনে প্রভূত শান্তি পেয়েছি।
আমি সারাদিন শুধু বাইরে
আহা, ঘুরে ঘুরে কাকে চেয়েছি।
রবীন্দ্রনাথ, ক্ষমা দাও।
এ লাইন তোমারই জন্যে।
তবে ওই অশান্তি যেচে নেয়
যারা, বিংশশতক পুড়ে ছাই
হলে একবিংশের কুৎসায়
আজ বসে-বসে শুধু ঝলসায়।
# মনে প্রভূত শান্তি পেয়েছি।
তবু প্রভূত শান্তি পেয়েছি।
কেন?  আত্মচেতনা, বৎস!
জানি শুনতে আজব কিসসা
তবু এটাই সত্যি, মহোদয়।
আমি শান্তি গজাই আঙিনায়।
# যত প্রতিদিনকার তমসায়
রোজ গায়ে ছাল ওঠে, বা গজায়
কিছু শ্যাওলার মত পুরু ছাল…
আমি তত শ্বদন্তে বল পাই
আর তত শ্লেষ নিয়ে চলকাই।
তবু বৃথা বৃথা বৃথা সবটাই
আজ এই মুহূর্তে, কেননা…
# আমি প্রভূত শান্তি পেয়েছি
যারা শান্তির খোঁজ জানেনা
তারা ভাবে ওটা উপনিষদের
আহা, ভয় নেই, বাছা ভয় নেই
আমি শান্তি গজাই মর্ত্যেই।
এই মর্ত্যধূলির রেটোরিক
আজ খুব কাজে আসে, গর্তেও।
# সেই গর্তের নিচে তীব্র
কিছু লোক বাস করে, নির্জন।
তারা শান্তি গজায় প্রতিদিন।
আর চুপচাপ থাকে, মাইক্রো।
তারা প্রতিদিন ওঠে , বসে আর
ঘুম যায় নিজ নিজ চক্রেই
তবু  খোঁজে না  গলদ, আইনে
তারা চেঁচায় না মৃদু তার্কিক।
# তারা শক্তি জমায়, শক্তি।
যেন গাছ হয়ে যায় কয়লা
যেন প্লাংটন হল পেট্রোল।
তারা শব্দ জমায়, বম্বিং
হবে একদিন সেই শক্তি।
# আজ শান্তি জমাই আমরা।
ফেটে পড়বার যদি বল পাই!

বসন্ত বিলাপ

বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়
বাধ্যতামূলক চুল, ক্লিপ খুলে, তোমার কপাল বেয়ে
গড়িয়ে নামার
আগে ছিল আমন্ত্রণ, আর এখন
সামান্য হাওয়ায় উড়ছে, যেন এক
মেঘভর্তি জামা।
# তুমি পড়ো, অন্যের কবিতা পড়ে রোমাঞ্চিত
তোমার অধর
গান বিন্দু হয়ে যেন ঝরে পড়ে
জ্ঞানমঞ্চ-রোটারি সদন।
# বাক্য এত ভালোবাসো, ধ্বনি নয়?
বসন্তমর্মর
আলস্য দুপুর জুড়ে, ইদানীং তুমি, আর
অল্প অল্প জ্বর…।